
কিছু দিন আগেও ছিলেন হতদরিদ্র একজন দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অভাব-অনটন নিত্য সঙ্গী ছিল। অবশেষে ছাগল পালন করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক (৫৫)। বাচ্চা হলে ভাগাভাগি করে নেয়ার ভিত্তিতে ছাগল পুষতে নিয়ে এখন সেটি ১০০টির ওপরে দাঁড়িয়েছে। ছাগল বিক্রির টাকায় কিনেছেন ৪ বিঘা ফসলি জমি।
প্রবল ইচ্ছা শক্তি ও মনোবল থাকলে ভাগ্যের যে পরিবর্তন করা যায়, সেটি দেখিয়ে দিয়েছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার সুকপুকুরিয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরের ওই ব্যক্তি। সংসারে তার স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে। জীবিকার জন্য দিনমজুরের কাজ বেছে নেন। কিন্তু দিনমজুরির টাকায় কুলিয়ে উঠতে না পারায় ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মনে মনে ভিন্ন কিছু করার কথা ভাবেন। কিন্তু নতুন কোনো কিছু করার মতো মূলধন ছিল না।
একপর্যায়ে এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে পোষার জন্য একটি ছাগল নেন। শর্ত ছিল বাচ্চা হলে ভাগাভাগি করে নেবেন। এরপর ওই ছাগলের বাচ্চা হয়। সেগুলো বড় হয়ে বাচ্চা দিতে শুরু করলে বছর বছর ছাগলের সংখ্যা বাড়াতে থাকে তার। একসময় ১০/১২টি ছাগল হওয়ার পর দিনমজুরের কাজ ছেড়ে দেন রাজ্জাক।
রাজ্জাকের স্ত্রী ও তার ছোট ছেলে আকাশ ছাগলের পরিচর্যা শুরু করেন। শুধুমাত্র ঘাস ও ভূসি খাইয়ে ছাগলের দৈহিক গঠন বাড়িয়ে তোলেন। বর্তমানে ১শ’ টির বেশি ছাগল রয়েছে তাদের। এর মধ্যে ২০টি বকরি ছাগলের পেটে বাচ্চা। এভাবেই দিন দিন ছাগলের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তাদের বাড়িটি দেখে যে কারো মনে হতে পারে একটি ছাগলের খামার।
আব্দুর রাজ্জাকের ছাগল পালন এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। রাজ্জাক ও তার ছোট ছেলে আকাশ প্রতিদিন ছাগলের পাল অনাবাদি জমি বা রাস্তার ধারে চরাতে নিয়ে যান। ছাগলের পাল দেখে সবাই মুগ্ধ হন। বর্ষা মৌসুমে বাড়তি খাবার দিতে হয়। অন্য সময় বাড়তি খাবরের প্রয়োজন হয়না। মাঠ চরিয়ে খাবারের চাহিদা পুরণ হয়। তাদের দেখে আশপাশের অনেকেই ছাগল পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
অব্দুর রাজ্জাক ও তার ছেলে আকাশ বলেন, তারা প্রায় ৬ বছর ধরে ছাগল পালন করছেন। ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে মাঠে কিনেছেন ৪ বিঘা জমি। প্রতিটি বকরি ছাগল একই সময়ে দুটি থেকে চারটি বাচ্চা দেয়। এ ছাড়া ছাগল পালন করেই তাদের সংসারের সব খরচ চলে। এখন আর দিনমজুরি করতে হয় না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে কোনো চিকিৎসা সুবিধা পাই না। সরকারি সুবিধা পেলে আরো উন্নতি করতে পারতাম।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুরল কবির বলেন, পশুপাখি পালনের ক্ষেত্রে আমাদের অফিস থেকে বিনামূল্যে কৃমিনাশক ওষুধ, সরকারি মূল্যে ভ্যাকসিন, প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা দেয়া হয়। আব্দুর রাজ্জাকের ছাগল পালনের বিষয়ে খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।