ঢাকা   শনিবার
০৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

মিঠা পানির টাটকা শুটকি মেলে বড়বাজারে, হয় কোটি টাকার বেচা-কেনা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:১৬, ৩ এপ্রিল ২০২৫

মিঠা পানির টাটকা শুটকি মেলে বড়বাজারে, হয় কোটি টাকার বেচা-কেনা

কিশোরগঞ্জের হাওড়ের মিঠা পানির শুটকির কদর দেশ-বিদেশে। জেলার বিভিন্ন হাওড় ও নদ-নদীতে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ মাছ। এ মাছের বড় একটি অংশ রোদে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। জেলার বিভিন্ন হাটেবাজারে পাইকারি দামে বিক্রি হয় এসব শুটকি।

চলতি মওসুমে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর কিশোরগঞ্জের বড়বাজার শুটকির হাট। সপ্তাহের দুদিন এ হাট থেকে বিক্রি হয় অন্তত ৫ কোটি টাকার শুটকি। কিশোরগঞ্জ ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে শুটকি আসে এ বাজারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাওড়ের নদ-নদী আর মুক্ত জলাশয়ের মিঠা পানির নানা প্রজাতির তাজা মাছের শুটকির সমারোহ কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড় বাজারে। পুঁটি, চিংড়ি, চান্দা, চাপিলা, টেংড়া, মলা-ঢেলা, কাচকিসহ অন্তত ৪০ প্রজাতির শুটকি পাওয়া যায় এখানে।

তবে বাজারের প্রধান আকর্ষণ রূপালী পুঁটি মাছের শুটকি। হাওড়ের মিঠা পানির মাছ দিয়েই হয় এই শুটকি। বাজারের ২৫টি আড়ত শীত মৌসুমে বুধ ও বৃহস্পতিবার মুখরিত থাকে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে। কিশোরগঞ্জ ছাড়াও নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জের হাওড় থেকে আসে শুটকি। বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে শুটকি কিনে নিয়ে যান।

বিশুদ্ধ, সুস্বাদু  ও গুণগত মান ভালো থাকায় এ বাজারে শুটকির চাহিদা বেশি বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা। প্রতি মওসুমে বড়বাজার হাট থেকেই বিক্রি হয় অন্তত ২০০ কোটি টাকার শুটকি।

ক্রেতারা জানান, এ বাজারের শুটকির কোনো জুড়ি নেই। কোনো প্রকার মেডিসিন ছাড়া ভালো করে রোদে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। এখানে পাতলা শুটকি পাওয়া যায়। তাই চ্যাপা তৈরির জন্য এ বাজার থেকে পরিমাণ মতো পুঁটির শুটকি কেনা যায়। দামেও মেলে স্বস্তি।

আড়ত মালিকরা জানান, হাওরের মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে শুটকি সংগ্রহ করে বড় বাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়। এখান থেকে ক্রেতারা পছন্দমতো শুটকি কিনে নিয়ে যান। বড়বাজারের প্রতিটি আড়তে দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ মণ শুটকি বিক্রি হয়। কোনো প্রকার মেডিসিন ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে এসব শুটকি তৈরি করায় এর চাহিদা দেশের যে কোন এলাকা থেকে বেশি থাকে সব সময়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, কিশোরগঞ্জে শুটকি তৈরির সাথে জড়িত আছেন ৬ শতাধিক শ্রমিক। জেলায় এবার দেড় হাজার মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছি।

তিনি জানান, শুটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তারা যাতে সহজে ব্যাংক ঋণ নিতে পারে সে জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়া হয়।

এগ্রি২৪.টিভির বিদেশ, জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হতে আগ্রহীরা সিভি  ও নিউজ পাঠান agri24.tv@gmail.com এই ইমেইলে।